Saturday, September 14th, 2019

Astro Research Centre

মলুটি টেরাকোটা গ্রাম - মা মৌলিক্ষা এবং তারাপীঠ, মা তারার বোন ও বামদেবের ভূমিকা ,আকালিপুরের গুহ্যকালী ও লাগোয়া ভদ্রপুর, malutir কালী পূজা, বীরভূম লালমাটির দেশ, আটলাগ্রাম,

মলুটি টেরাকোটা গ্রাম - মা মৌলিক্ষা এবং তারাপীঠ, মা তারার বোন ও বামদেবের ভূমিকা ,আকালিপুরের গুহ্যকালী ও লাগোয়া ভদ্রপুর, malutir কালী পূজা, বীরভূম লালমাটির দেশ, আটলাগ্রাম,

মহুলটি। মহুল গাছের জঙ্গল। কথ্য ভাষায় মলুটি। শুনলেই চোখ চকচক করে উঠবে মন্দির-গবেষকদের। একটা পাহাড়ি টিলা। চন্দননালা নদী। একটু দূরে চুমড়ে নাম্নী আরেক ক্ষীণস্রোতা। রামপুরহাট বা মল্লারপুর থেকে দুমকা যাওয়ার রাস্তা। আগের বীভৎসতার থেকে অনেকটা ভাল। বাস যোগাযোগ প্রায় না থাকা থেকে কিছুটা বেশি। বীরভূমের প্রাচীনতম শিবমন্দিরের জন্য খ্যাত মাসরা গ্রামকে একদিকে রেখে মলুটির যে রাস্তা ডানদিকে বেঁকে যায়, একটা সময় পর তার পরিষ্কার তফাৎ চোখে পড়ে। প্রাচীন ময়ূরেশ্বরের অধীনে বীরভূমির এই অঞ্চল আজ ঝাড়খণ্ডে। পড়শি রাজ্য ঢুকতেই রাস্তা চকচকে। চন্দননালা নদীর পাড় বরাবর লোভনীয় জার্নি।




মলুটি গ্রামে ঢোকার পথনির্দেশ

কথন। সপ্তদশ শতকে আলাউদ্দিন হোসেন শাহ্‌র প্রিয় বাজপাখি উদ্ধার করে দিয়ে বসন্ত রায় রাজতালুক পান। হয়ে যান বাজ বসন্ত। বীরভূমের কাতিগ্রামের এই মানুষটির বংশধরেরা প্রথমে দামড়া থেকে পরে মলুটিতে আসেন। নানকার বা করমুক্ত রাজ্য মলুটিতে বাজ বসন্তর পরিবারটি চার তরফে ভাগ হয়ে যায়। আর চার তরফের নিজেদের মধ্যে এক ধরনের বিরল প্রতিযোগিতা থেকে নির্মিত হয় ১০৮টি মন্দির। অষ্টাদশ শতক থেকে উনবিংশ শতকের শেষভাগ পর্যন্ত সময়কালে মাত্র চারশ বাই চারশ মিটার জায়গায়। এই ১০৮টির মধ্যে ৭২টি আজও অক্ষত।

মলুটি টেরাকোটা গ্রাম - মা মৌলিক্ষা এবং তারাপীঠ, মা তারার বোন ও বামদেবের ভূমিকা ভদ্রকালী গুহ্যকালী ভদ্রপুর ও অকালিপুর

অমাবস্যার নিশি রাতে যখন চারদিকে কালীর আরাধনা চলে, আলোকিত হয়ে ওঠে কালী মন্দিরগুলি। তখন অন্ধকারে ডুবে থাকে মহারাজ নন্দকুমার প্রতিষ্ঠিত নলহাটির আকালিপুরের গুহ্যকালী ও লাগোয়া ভদ্রপুর গ্রামের ভদ্রকালী মন্দির। নিশিরাতে হয় না কোনও পুজো। তবে নিত্য পুজোর চল রয়েছে।
কথিত আছে, পুরাকালে মগধের রাজা জরাসন্ধ পাতালে এই কালীর সাধনা করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর রাজস্থানের রানি অহল্যাবাই কিছুদিন মগধে আসেন। তিনি খনন কার্য চালিয়ে শিবলিঙ্গ ও একটি কষ্টি পাথরের বেদি সমেত কালী মূর্তি পান। পরে মহারাজ নন্দকুমার কাশীতে মূর্তিটি গঙ্গা থেকে উদ্ধার করে আকালিপুর গ্রামে ব্রহ্মাণী নদী তীরবর্তী বটগাছের নীচে মূর্তিটি প্রতিষ্ঠা করেন।
মা এখানে ভয়ঙ্কর দর্শনা। পদ্মাসনে অধিষ্ঠিত মায়ের অলঙ্কারও সাপের। হাতে পায়ে সাপের আকৃতির চুড়ি, নুপুর। মাথায় সহস্র নাগের ফনা যুক্ত মুকুট। মা এখানে গুহ্যকালী নামে পরিচিত।
মন্দিরের প্রধান পুরোহিত দেবাশিস মুখোপাধ্যায় বলেন, রাজ পরিবার মায়ের নিত্য সেবার ব্যবস্থা করে আসছে। প্রতিদিন মাকে আতপ চালের ভাত, ভাজা, মুগের ডাল, তরকারি ও তেঁতুল দিয়ে মাছের টক ভোগ হিসাবে নিবেদন করা হয়। তিনি বলেন, বহু যুগ ধরে কালী পুজোর নিশি রাতে এখানে মায়ের কোনও পুজোর চল নেই। কী কারণে তা সকলের অজানা। তবে চতুর্দশী তিথি ও রটন্তী কালী পুজোয় মায়ের বিশেষ পুজো হয়।
অন্যদিকে, ভদ্রপুর গ্রামের ভদ্রকালী মন্দিরের প্রবীণ সেবাইত সুপ্রিয় চট্টোপাধ্যায় বলেন, মহীরাবন কালী হিসাবে খ্যাত এই ভদ্রকালী। একই মূর্তি রয়েছে অযোধ্যা পাহাড়ে। দু’টিই কষ্টিপাথরের। নিঃশব্দে ভদ্রকালী মায়ের আরাধনার প্রথা চলে আসছে। কথিত আছে, কোনও একটা সময় অমাবস্যার নিশিরাতে পুজো চলাকালীন হনুমান বাজনা বাজিয়েছিল। তারপর থেকেই মহীরাবনের ধ্বংস শুরু হয়। সেই থেকে কালী পুজোয় এখানে মায়ের কোনও পুজো হয় না। তবে নিত্য সেবা হয়।
অন্যদিকে, শুধুমাত্র আলোর দেবীর পুজোয় আলোকিত হয় কালীর গ্রাম হিসাবে পরিচিত বীরভূম সীমান্ত লাগোয়া জঙ্গলে ঘেরা ঝাড়খণ্ডের মলুটি গ্রাম। দেহহীন দেবী এখানে ত্রিনয়নী। মা মৌলিক্ষা নামে পরিচিত। কালীপুজোর নিশিরাতে দুই রাজ্যের হাজার হাজার বাসিন্দা মলুটির দেবীমস্তক নানকার রাজবাড়িতে ভিড় জমান। আগে বিষ্ণুপুরের মল্লরাজাদের শাসনে ছিল এই অঞ্চল। রাজবাড়ির বংশধররা আজও মায়ের পুজো চালিয়ে আসছেন।
বর্তমানে ভারতের পুরাতত্ত্ব বিভাগ মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছে। রাজবাড়ির আট শরিক পুজো করেন। মন্দির লাগোয়া মাঠে বাজি পোড়ানো হয়। পুজো দেখতে এলাকার বহু গ্রামের হাজার হাজার মানুষের ভিড় জমে। পরের দিন বিকালে পুকুরে নিরঞ্জন হয়।
মন্দিরের সেবাইত পুলক চট্টোপাধ্যায় বলেন, গ্রামে বিদ্যুতের সংযোগ থাকলেও মাসে খুব কম দিনই এখানে বিদ্যুৎ থাকে। বিদ্যুৎ থাকলেও লো-ভোল্টেজে জেরবার হতে হয় বাসিন্দাদের। পুজোতেই গ্রাম আলোকিত হয়। রাতে বসে মেলা।
মন্দিরের সেবাইত কানাইলাল চট্টোপাধ্যায় বলেন, রাজা রাখরচন্দ্রের বাড়ির পুজোয় মোষ বলি বন্ধ হয়ে গেলেও বাকি শরিকদের পুজোয় মোষ ও মেষ বলি হয়।

রামপুরহাট থেকে ১৫ কিমি দূরে, বাংলা ঝাড়খন্ড বর্ডারে দুমকা জেলায় মৌলিক্ষা মায়ের মন্দির । সবাই হয়তো তারাপীঠেই যান, কিন্তু মলুটি গ্রাম - মৌলিক্ষা মায়ের কথা জানেন না । রামপুরহাট ১৫ কিমি দূরে রামপুরহাট দুমকার রাস্তায় গিয়ে বাংলা – ঝাড়খণ্ড সীমান্তে মলুটি মোড় থেকে বাঁদিকের রাস্তায় ৬ কিমি গেলে পৌঁছে যাবেন মলুটি গ্রাম। বর্তমানে গ্রামটি ঝাড়খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।
মৌলিক্ষা মায়ের কাছেই বাবা বামাখ্যাপা প্রথম সিদ্ধ লাভ করেন, প্রথম পুরোহিত উনিই, তাইমলুটি মৌলিক্ষা মায়ের মন্দির হলো সিদ্ধপীঠ । বাবা বামাখ্যাপা এরপর তারাপীঠ চলে যান । মৌলীক্ষা মন্দিরে বামদেবের যে সাধনা কক্ষটি রয়েছে সেখানেতে বামদেবের ত্রিশূল ও বামদেব ব্যবহৃত বৃহৎ শঙ্খটি আজও সেই ইতিহাসের সাক্ষী বহন করে চলেছে।
গ্রামের স্থানীয় মানুষ মৌলিক্ষা মাকে ছোটোবোন এবং তাঁরা মাকে বড়োবোনও বলে ডাকেন । কালী পূজার রাতে সারারাত ধরে এখানে পূজা হয় ।
মলুটি গ্রাম হলো টেরাকোটার গ্রাম । সারা গ্রামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ১০৮ টা শিব মন্দির ছিলো । টেরাকোটা কাজের মন্দির । কিন্তু পরিচর্যা এবং যত্নের অভাবে ৩৬ টা মন্দির আর এখন নেই । বাকি ৭২ টা মন্দির মলুটি গ্রামে আছে । টেরাকোটার কাজ দেখার মতো । মন্দির গুলি সপ্তদশ থেকে শুরু করে উনিশ শতকে তৈরি, রাজা বাজ বসন্তের বংশের ভিন্ন ভিন্ন রাজাদের আমলে। মন্দির গুলি বাংলার একচালা ও চারচালা শৈলীর এক সুন্দর নিদর্শন । মন্দির গুলি প্রায় সবকটি পোড়ামাটির তৈরি অর্থাৎ টেরাকোটার । টেরাকোটার বর্গাকার প্যানেল বসিয়ে মন্দিরগুলির গায়ে বসানো হয়েছে । টেরাকোটার পানেল গুলিতে রামায়ণ, মহাভারতের ও শাক্ত পদাবলীর মহিসাসুর ও মা দুর্গার যুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।
তারাপীঠে পুজো দিয়ে একবার ঘুরে আসতে পারে্ন মলুটি গ্রামতে। দেখে আসতে পারেন প্রাচীন বাংলার প্রায় ভুলে যাওয়া একচালা আর চারচালা মন্দিরের ইতিহাস ।

চতুর্দশীতে মা তারা কেন মা মৌলিক্ষা অর্থাত্ মলুটির দিকে মুখ করে বসে পুজো নেন ?

মায়ের বিদায়ে আকাশ বাতাস যখন ভারাক্রান্ত, ঠিক সেই সময় শুক্লা চতুর্দশী তিথি তে তারা মায়ের আবির্ভাব সিদ্ধপীঠ তাড়াপীঠে।
সাধারণত তারামায়ের মূর্তি উত্তরমুখী। এই দিন তারামা কে পশ্চিমমুখে বসিয়ে আরাধনা করা হয়।

কথিত আছে, পাল রাজত্বের সময় শুক্লা চতুর্দশী তিথিতে জয়দত্ত সদাগর স্বপ্নাদেশ পেয়ে শ্মশানের শ্বেতশিমুল বৃক্ষের তলায় পঞ্চমুণ্ডির আসনের নীচে থেকে মায়ের শিলামূর্তি উদ্ধার করে মন্দির প্রতিষ্ঠা করে পুজোর সূচনা করেছিলেন। তখন থেকেই এই দিনটি মায়ের আবির্ভাব তিথি হিসাবে পালিত হয়ে আসছে।জীবিতকুন্ডু থেকে জল এনে মাকে স্নান করানোর পর রাজবেশে সাজানো হয়। এই দিন তারামা পশ্চিম মুখে পূজিতা হন। কারণ পশ্চিম দিকে মায়ের ছোট বোন মলুটির মা মৌলিক্ষার মন্দির। কিন্তু কেন এদিন মাকে পশ্চিমমুখী রাখা হয়?

প্রাচীন কিছু পুঁথি ঘেঁটে জানা গিয়েছে, বাংলার ১১০৮ ও ইংরেজি ১৭০১ সালে আবির্ভাব তিথিতে বিশ্রাম মন্দিরে তারামাকে পূর্বদিকে বসিয়ে পুজো শুরু করার তোড়জোড় করছিলেন তদানীন্তন তান্ত্রিক, পুরোহিত ও পান্ডারা। এমন সময় মলুটির নানকার রাজা রাখরচন্দ্র মায়ের সামনে আরাধনায় বসেন। যা দেখে তান্ত্রিক, পুরোহিত ও পান্ডারা হৈ হৈ করে ওঠেন এবং রাজাকে আসন থেকে তুলে পুজোপাঠ বন্ধ করে দেন। রাজা মায়ের প্রতি অভিমান করে চলে এসে দ্বারকা নদের পশ্চিম পাড়ে ঘট প্রতিষ্ঠা করে মায়ের পুজো করে মলুটি গ্রামে ফিরে যান। ওই রাতেই প্রধান তান্ত্রিক প্রথম আনন্দনাথকে তারা মা স্বপ্ন দিয়ে বলেন, রাখরচন্দ্র আমার ভক্ত, সে অভিমান করে চলে গিয়েছে। এবার থেকে পুজোর সময় আমার মুখ যেন পশ্চিমমুখে মলুটির কালীবাড়ির দিকে হয়। সেই থেকে বিশেষ এই তিথিতে মাকে পশ্চিমমুখী বসিয়ে পুজো করা হয়। এই দিন সকালে মায়ের বিশেষ পুজো ও মঙ্গলারতির পর সর্বসাধারণের জন্য বিশ্রামাগার খুলে দেওয়া হয়। সকলে মাকে স্পর্শ করে পুজো দিতে পারেন।

মায়ের কোনও অন্নভোগ এই দিন হয় না। সন্ধ্যায় মায়ের আরতির পর খিচুড়ি ও পাঁচরকম ভাজা দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয়। এরপর মাকে গর্ভগৃহে ফিরিয়ে এনে স্নান করিয়ে ফের পুজো ও আরতি করা হয়।


তারাপীঠের মহাশ্মশানের রহস্য লুকিয়ে আছে শ্মশান-সংলগ্ন দ্বারকা নদীর জলে। এই নদী উত্তরবাহিনী। অর্থাৎ এর স্রোত বইছে উত্তর দিকে। হিন্দু ধর্মে উত্তরবাহিনী নদী বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কেন না, ভারতের প্রায় সব নদীই নেমেছে উত্তর দিকে স্থিত হিমালয় থেকে। অতএব, তাদের ধারা কখনই উত্তর অভিমুখী হবে না। হলে তা বইবে উল্টো খাতে। একমাত্র কাশীতে গঙ্গা উত্তরবাহিনী। আর বীরভূমে দ্বারকা। তাই দ্বারকা নদী মহাশক্তির উৎস। এই নদীজলে স্নান করলেই সিদ্ধিলাভের যোগ্যতা অর্জন করেন মানুষ। দূর হয় সব পাপ।


tarapith
পঞ্চমুণ্ডের আসনে ভক্তদের প্রণাম
তৃতীয় রহস্য মহাশ্মশানস্থিত বামাখ্যাপার পঞ্চমুণ্ডের আসন। এই জায়গায় এসে একটু তাকাতে হবে দেবীর রূপবর্ণনায়। তাঁর মাথাতেও আমরা দেখছি পঞ্চমুণ্ডের সমাহার। কিন্তু, এই পঞ্চমুণ্ডের আসন আলাদা। এখানে পাঁচটি মুণ্ড সাপের, ব্যাঙের, খরগোশের, শিয়ালের এবং মানুষের। এই আসনে বসেই বহু যুগ পূর্বে দেবীকে তুষ্ট করে তারাপীঠকে সিদ্ধপীঠে পরিণত করেছিলেন ঋষি বশিষ্ঠ। সেই আসন আজও বিদ্যমান। সাধক বামাখ্যাপাও এই আসনে বসে তন্ত্রসাধনায় সিদ্ধি লাভ করেন। অর্থাৎ, এই আসন আজও জাগ্রত। খুব শুদ্ধচিত্তের মানুষ না হলে এই আসনে বসা মাত্র সারা শরীরে তীব্র জ্বালা শুরু হয়। সেই জ্বালায় উন্মাদ হয়ে যায় মানুষ। অশুচি চিত্তে আসনে বসেছিল বসে শাস্তি পায়!


তারা হিন্দু দেবী কালীর একটি বিশিষ্ট রূপ। দেবীতারা দশমহাবিদ্যার দ্বিতীয় মহাবিদ্যা। কালীর মতোই তারা রুদ্র মুর্তির দেবী । তারার বিভিন্ন রূপান্তর উগ্রতারা, নীল সরস্বতী, কুরুকুল্লা তারা, খদির বাহিনী তারা, মহাশ্রী তারা, বশ্যতারা, সিতাতারা, ষড়ভূজ সিতাতারা, মহামায়া বিজয়বাহিনী তারা ইত্যাদি। বৌদ্ধধর্মেও এই দেবীর পূজা প্রচলিত । তারার মূর্তিকল্পনা কালী অপেক্ষাও প্রাচীনতর। পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠে অবস্থিত দেবী তারার মন্দির বিখ্যাত। তারা মায়ের মন্দির । দ্বারকা নদীর ধারে রামপুরহাট থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে ছোট্ট মন্দিরনগরী। মন্দির সংলগ্ন মহাশ্মশান। বছর ভর এই শক্তিপীঠে ভক্তদের ভিড় লেগে থাকে।

মূর্তিতত্ত্বঃ তারা প্রত্যালীঢ়পদা অর্থাৎ শববক্ষে দক্ষিণপদ স্থাপিতা। ভয়ংকরী, মুণ্ডমালাভূষিতা, খর্বা, লম্বোদরী, ভীষণা, কটিতে ব্যাঘ্রচর্মাবৃতা, নবযৌবনা, পঞ্চমুদ্রা শোভিতা, চতুর্ভূজা, লোলজিহ্বা, মহাভীমা, বরদা, খড়্গ কাতরি দক্ষিণহস্তে ধৃতা, বামহস্তদ্বয়ে কপাল ও নীলপদ্ম, পিঙ্গলবর্ণ একজটাধারিণী, ললাটে অক্ষোভ্য প্রভাতসূর্যের মতো গোলাকার তিন নয়নশোভা, প্রজ্জ্বলিত চিতামধ্যে অবস্থিতা, ভীষণদন্তা, করালবদনা, নিজের আবেশে হাস্যমুখী, বিশ্বব্যাপ্ত জলের মধ্যে শ্বেতপদ্মের উপর অবস্থিতা।


তন্ত্রসারে তারার আরও একটি ধ্যানমন্ত্র বর্ণিত হয়েছে- “শ্যামবর্ণা ত্রিনয়না দ্বিভূজা, বরমুদ্রা ও পদ্মধারিণী, চতুর্দিকে বহুবর্ণা ও বহুরূপা শক্তির দ্বারা বেষ্টিতা, হাস্যমুখী মুক্তাভূষিতা, রত্নপাদুকায় পাদদ্বয় স্থাপনকারিণী তারাকে ধ্যান করবে। বৃহদ্ধর্ম পুরাণে তারাকে কেবল শ্যামবর্ণা ও কালরূপিণী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তন্ত্রসারে তারাকেই মহানীল সরস্বতী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তারার সুপরিচিত রূপগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্যঃ হরিত তারা, (শ্যামাতারা) বোধিপ্রাপ্ত ক্রিয়াকর্মের বুদ্ধ হিসেবে পরিচিত। শুক্লতারা, (সীতাতারা) দয়া, দীর্ঘজীবন, আরোগ্যদান ও শান্তি হিসেবে পরিচিত; এছাড়াও চিন্তাচক্র বা কল্পতরু চক্র হিসেবেও পরিচিত। রক্ততারা, (কুরুকুল্লা) সকল ভাল জিনিস চুম্বকীকরণের সঙ্গে যুক্ত ভয়াবহ রূপ। কৃষ্ণতারা, শক্তির সঙ্গে যুক্ত। পীততারা, (ভৃকুটি) সম্পদ ও বিকাশের সঙ্গে যুক্ত। নীলতারা, ক্রোধের পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত। চিত্তমণি তারা, তারার একটি রূপ যা তিব্বতি বৌদ্ধধর্মের গেলাগ শাখায় সর্বোচ্চ যোগ তন্ত্রেবহুলভাবে প্রচলিত। এঁর গাত্রবর্ণ সবুজ দেখানো হয় এবং প্রায়শই হরিত তারার সঙ্গে এক হিসেবে দেখানো হয়। খদিরববনী তারা, দক্ষিণ ভারতের খদিরবনী বনে ইনি নাগার্জুনের সামনে আবির্ভূতা হয়েছিলেন বলে কথিত আছে। এঁকে প্রায়শই “২২তম তারা” বলা হয়।

পৌরাণিক তত্ত্বঃ শ্রীশ্রী চণ্ডী’ বা ‘দেবীপুরাণ’-এ উল্লিখিত কৌষিকী ও তারাকে অভিন্না বলে মনে করেন অনেকেই। কালিকা কৌষিকীরই পরিবর্তিত রূপ এমন সমর্থনও পুরাণে পাওয়া যায়। দেবী তারার আট রূপ- উগ্রতারা, ভদ্রকালী, মহোগ্রা, নীলসরস্বতী, তারিণী, মহানীলসরস্বতী, একজ্বটা ও বজ্রা। এর মধ্যে কৌষিকী ও একজ্বটা দেবীকে অনেক তান্ত্রিক অভিন্না বলে মনে করেন। বাংলার শাক্ত পরম্পরায় ‘বুড়ি তারা’ নামে এক দেবীর উল্লেখ পাওয়া যায়। এই দেবীই তারা মায়ের প্রকৃত রূপ বলে বিবেচিত। কিন্তু পুরাণে বর্ণিতা কৌষিকীর সঙ্গে এই দেবীর মিল সামান্যই। তবু এঁকেই মহাকালীর প্রাকভাষ হিসেবে জ্ঞান করেন তান্ত্রিকরা। এবং কৌষিকী অমাবস্যায় তাঁর আরাধনা করেন।

তারা মন্ত্রঃ
ঊং হ্লীং আধারশক্তি তারায়ৈ পৃথ্বীয়াং নমঃ পূজয়ীতো অসি নমঃ।

জপ শেষে যজ্ঞ করতে হয়।
ফলঃ সিদ্ধি প্রাপ্তির পর সাধক তর্কশক্তি, শাস্ত্র জ্ঞান, বুদ্ধি কৌশল ইত্যাদি লাভ করেন।



১২৪৪ সালে এই শিব চতুদর্শীর দিনে সাধক বামদেব অটলা গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন।



বাংলা ১৩৬২ সাল থেকে আটলা গ্রামে শিবচতুর্দশী তিথিতে বামাক্ষেপার আবির্ভাব তিথি পালন শুরু হয়। তিনদিন ধরে চলে উৎসব।


About Atla
According to Census 2011 information the location code or village code of Atla village is 316349. Atla village is located in Rampurhat I Tehsil of Birbhum district in West Bengal, India. It is situated 6.7km away from sub-district headquarter Rampurhat. Suri is the district headquarter of Atla village. As per 2009 stats, Kharun is the gram panchayat of Atla village.

The total geographical area of village is 452.63 hectares. Atla has a total population of 3,398 peoples. There are about 781 houses in Atla village. Rampurhat is nearest town to Atla which is approximately 9km away.




|| পশ্চিম বাংলার সতীপীঠ (শক্তিপীঠ) ||

১) কালীঘাট, কলকাতা
২) কঙ্কালীতলা, বোলপুর, বীরভূম
৩) মা ফুল্লরা, লাভপুর, বীরভূম,
৪) নন্দীকেশ্বরী, সাইথিয়া, বীরভূম
৫) নলহাটি, বীরভূম
৬) বক্রেশ্বর, বীরভূম
৭) অট্টহাস, (ইনিও মা ফুল্লরা নামে পরিচিত) কেতুগ্রাম, পূর্ব বর্ধমান
৮) বহুলা মা, কেতুগ্রাম, পূর্ব বর্ধমান
৯) উজানি, মঙ্গলকোট, পূর্ব বর্ধমান
১০) যোগ্যদা মা ,ক্ষীরগ্রাম, পূর্ব বর্ধমান
১১) মা বর্গভীমা, তমলুক, পূর্ব মেদিনীপুর
১২) ভ্রমরী মা, বোদাগঞ্জ, জলপাইগুড়ি
১৩) কিরীটেশ্বরী মায়ের মন্দির, লালবাগ, মুর্শিদাবাদ ।
১৪) মা রত্নাবলী, কৃষ্ণনগর, খানাকুল, হুগলী জেলা

(তারাপীঠ কোন সতীপীঠ নয়, সিদ্ধপীঠ)

(বীরভূমের লাভপুরের মা ফুল্লরা অট্টহাস এবং পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের মা অট্টহাস দুজনেই অট্টহাস শক্তিপীঠ নামে পরিচিত এবং দুটোয় ৫১ পীঠের একপীঠ বলে পরিগণিত হয় । তাই এক্ষেত্রে বাংলার মোট শক্তিপীঠ ১৪ টা দাঁড়ায় । সবই পুরান মতে এবং বিভিন্ন মুনির বিভিন্ন মত ।)

৫১ পীঠের মধ্যে পুরান মতে ১৩ (১৪) টা পীঠ আমাদের পশ্চিমবঙ্গতে ।

★★ কালীঘাট:

এখানে সতীমায়ের ডান পায়ের চার আঙুল পড়েছে । দেবী হলেন কালিকা, ভৈরব হলেন নকুলেশ্বর ।

★★ কঙ্কালীতলা:

এখানে কোপাই নদীর তীরে সতী মায়ের কঙ্কাল পড়েছে । দেবী হলেন দেবগর্ভা, ভৈরব হলেন রুরু ।

★★ বীরভূমের লাভপুর এবং পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের অট্টহাস মা ফুল্লরা:

বিভিন্ন মতে এই দুইস্থান নিয়ে বিতর্ক আছে। দুটো স্থানই শক্তিপীঠ হিসাবে পুঁজিত হয় । এখানে সতীমায়ের ওষ্ঠ (ঠোঁট) পড়েছে । দেবী হলেন ফুল্লরা, ভৈরব হলেন বিশ্বেশ ।

★★ নন্দীকেশ্বরী :

এখানে সতী মায়ের গলার হার পড়েছে । দেবী হলেন নন্দিনী, ভৈরব হলেন নন্দীকেশ্বর ।

★★ নলহাটি:

এখানে সতী মায়ের কণ্ঠনালী পড়েছিল । দেবী হলেন কালী, ভৈরব হলেন যোগীশ।

★★ বক্রেশ্বর:

এখানে সতী মায়ের মন (ভ্রু যুগলের মধ্যবর্তী স্থান) পড়েছে ।দেবী হলেন মহিষমর্দিনী, ভৈরব হলেন বক্রনাথ ।

★★ বহুলা মা:

সতীমায়ের বাম বাহু পড়েছে । দেবী হলেন বহুলা, ভৈরব হলেন ভীরুক ।

★★ উজানি:

এখানে সতীমায়ের কনুই পড়েছে । দেবী হলেন মঙ্গলচন্ডিকা, ভৈরব হলেন কপিলেশ্বর ।

★★ যোগ্যদা মা:

এখানে সতীমায়ের ডান পায়ের বুড়োআঙুল (বৃদ্ধাঙ্গুল) পড়েছিলো । দেবী হলেন যোগ্যদা, ভৈরব হলেন ক্ষীরখন্ডক ।

★★ মা বর্গভীমা:

এখানে সতীমায়ের বামপায়ের গুলফ (গোড়ালী) পড়েছে । দেবী হলেন ভীমরুপা বা কপালিনী, ভৈরব হলেন সর্বানন্দ বা কপালী ।

★★ ভ্রমরী মা:

এখানে সতীমায়ের বাম পা পড়েছিল । দেবী হলেন ভ্রামরী, ভৈরব হলেন ঈশ্বর ।

★★ কিরীটেশ্বরী মা:

এখানে সতীমায়ের মাথার কিরীট বা মুকুট পড়েছিলো । দেবী হলেন কিরীটেশ্বরী এবং ভৈরব হলেন সংবর্ত ।

★★ মা রত্নাবলী:

এখানে সতীমায়ের ডান স্কন্ধ (ডানকাঁধ) পড়েছে । দেবী হলেন কুমারী এবং ভৈরব হলেন শিব।








সুপ্রভাত

আপনি কি জানতে চান আপনার ভাগ্যের অনুকূল ও প্রতিকূল পরিস্থিতি গুলি কি কি??

তাহলে এখুনি আপনার জন্ম তারিখ , জন্ম সময় , জন্ম স্থান এই website www.arcsm.in গিয়ে ১০০০টাকা দিয়ে registration করুন আপনা কে সমস্ত বিষয় সম্পর্কে জানানো হবে ..ও কুন্ডলী ও প্রতিকার প ঠানো হবে।
অনলাইন ছাড়া 500টাকা
Lob Mukherjee Govt.Enrolled &Enlisted Astrologer Founder of Astro Research Centre ph 8906959633 /9593165251 Email --lobmukherjeejsmarc@gmail .com Add--Rampurhat .Harisava para.Birbhum please like and share my page --Astro Research Centre contact www.arcsm.in
My website- arcsm.in
Please visit here
For Registration check in here.
All kind of Gems Stone are Testing here
All Kind of Certified Gems and Stone available here

পাইকারী ও খুচরা মূল্যে সকল প্রকার রত্ন পাওয়া যায়
রত্ন ব্যবসায়ীরা ও জ্যোতিষ বন্ধুরা যোগাযোগ করুন

Lob Mukherjee
SBI
A/c no.30677336540
IFS Code:SBIN0000165
Branch:Rampurhat
SBI

Axis Bank
A/C No 917010026448091
Branch - Rampurhat
Branch Code --1131
IFSC Code -UTIB0001131

এছাড়া Google pay BHIM এবং phone pe তে টাকা পাঠাতে পারেন



Blog Url:
https://arcsm.in/blog.php?blog=20190914213631