Thursday, April 30th, 2020

Astro Research Centre

বিবাহ গণনা করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহ

বিবাহ গণনা করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহ

একমাত্র প্রথম বিবাহের সমাপ্তির পরেই দ্বিতীয় বিবাহের প্রসঙ্গ আসে। সুতরাং দ্বিতীয় বিবাহ নিয়ে আলোচনার পূর্বে কুষ্টিতে গ্রহের বিন্যাস দেখে নেওয়া যাক যা প্রথম বিবাহকে নষ্ট করে দিতে পারে।

আপনি আগ্রহী হতেপারেন :ভবিষ্যৎ সঙ্গীর চেহারা, চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে কিভাবে জানবেন

বিবাহ গণনা করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহ

লগ্নে ৭ম স্থান হল বিবাহের প্রধান স্থান।এটি যে শুধুমাত্র বিবাহের স্থান তাই নয়, এটি আমাদের জীবনের সমস্ত সম্পর্কের জন্য দায়ী। যেমন ৭ম স্থান বা পতি যদি ৮ম অথবা ১২তম স্থান বা পতির সঙ্গে যুক্ত থাকে তবে তা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কও ঘটাতে পারে। ৭ম স্থানে শুভ গ্রহের উপস্থিতি স্বামী স্ত্রীর মধ্যে স্বাস্থ্যকর সম্পর্কের সূচনা করে। কিন্তু ৭ম স্থান বা তার পতি যদি পীড়িত হন তবে তা বৈবাহিক জীবনে দুর্ভোগের লক্ষণ। ৭ম স্থানে মঙ্গল, সূর্য, রাহুর মতো ক্ষতিকর গ্রহের উপস্থিতি সুখী দাম্পত্যের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর।

এরপর আমাদের ৮ম স্থানে নজর দেওয়া প্রয়োজন। ৭ম স্থানের থেকে দ্বিতীয় হয়ে ৮ম স্থান স্বাস্থ্যকর বিবাহকে সূচিত করে এবং বিবাহের পক্ষে মারক হয়। যদি ৮ম স্থান বা তার পতি পীড়িত হন তবে বিয়ে ভেঙে যেতে পারে। ৮ম স্থানে মঙ্গল,রাহু,শনির মতো গ্রহের উপস্থিতি একটি বিবাহ ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

২য় স্থান পরিবারের স্থান এবং সেইজন্য এটি লক্ষ্য করাও প্রয়োজন।

এই স্থান গুলি ছাড়াও আমাদের আরেকটি জিনিস লক্ষ্য করতে হবে এবং তাহল উপপদলগ্ন। উপপদলগ্ন হল ১২তম স্থানের অরুধাপদ।

কিভাবে উপপদ গণনা করবেন: ধরা যাক একজন ব্যক্তি মেষ লগ্নে জন্ম গ্রহণ করেছেন এবং তার ১২তম পতি বৃহস্পতি কর্কটে অবস্থান করছে। ১২তম স্থান মীন থেকে কর্কট ৫রাশি দূরত্বে অবস্থান করে। সুতরাং আমরা কর্কট থেকে ৫রাশি যোগ করব এবং তাহলে আমরা বৃশ্চিক রাশিতে পৌঁছব। বৃশ্চিক ঐ ব্যক্তির উপপদলগ্ন হবে।

উপপদ লগ্ন থেকে ২য় স্থান হল দীর্ঘ বৈবাহিক জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি উপপদলগ্নে ২য় স্থানে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব থাকে তখন জ্যোতিষশাশ্ত্রে বিবাহবিচ্ছেদ ও দ্বিতীয় বিবাহের সম্ভাবনা থাকে।

বিবাহের সম্ভাবনা/প্রত্যাশাকে বিবেচনা করার সময় আমাদের নভমসাকেও লক্ষ্য করে দেখতে হবে। নভমসা লগ্ন ও তার পতি এবং ৭ম স্থান ও তার পতিকেও লক্ষ্য করতে হবে। যদি নভমসায় ৭ম স্থান পীড়িত হয় তবে প্রথম বিবাহের ভেঙে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। যেমন যদি রাহু–কেতু নভমসার ১ম–৭ম স্থানে অবস্থান করে তবে বিবাহ বিচ্ছেদের সম্ভাবনা চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে।

জ্যোতিষশাশ্ত্র অনুযায়ী বিচ্ছেদের জন্য দায়ী গ্রহ সমূহ

জ্যোতিষশাশ্ত্রে ,প্রথম বিবাহে বিচ্ছেদ না ঘটলে আমরা দ্বিতীয় বিবাহের জন্য এগোতে পারি না। জ্যোতিষশাশ্ত্রে মঙ্গল, রাহু,সূর্য এবং শনি হল বিচ্ছেদের প্রধান ও সক্রিয় কারণ। শনি বিচ্ছেদের পক্ষে সবচেয়ে কম ক্ষতিকর। শনি ব্যথা–বেদনা দেয় কিন্তু কখনোই ব্যক্তিকে সম্পর্ক ভাঙতে বা সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে দেয় না। যদি মঙ্গল,রাহু বা সূর্য ৮ম স্থানে অবস্থান করে তখন তা বিচ্ছেদের প্রবল লক্ষণ। কিন্তু আমি আপনাদের সাথে আমার অভিমত শেয়ার করতে চাই যে কুন্ডলীর যথার্থ মিলন বিচ্ছেদের সম্ভাবনা হ্রাস করতে পারে। কিন্তু আমি আমার প্রত্যেক লেখায় বারং বার উল্লেখ করেছি যে অষ্টকূট গুণের মিলন যথার্থ কুষ্টির মিলন নয়। আমি বিস্তারিত ভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছি যে কিভাবে বিবাহের জন্য কুষ্টির যথার্থ মিলন ঘটানো যায়। একটা ধারণা পাওয়ার জন্য আপনার এটা পড়া উচিৎ।

বিবাহের সূচক শুক্রকে পীড়িত হতেই হবে নয়তো শক্তিশালী শুক্র একটি বিবাহকে রক্ষা করতে পারে।

বিচ্ছেদের জন্য দায়ী গ্রহের বিন্যাস সমূহ

এখন বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য কিছু নীতি সম্বন্ধে বুঝে নেওয়া যাক।

৬ষ্ঠ স্থান হল শত্রু, সংগ্রাম এবং বাধা–বিপত্তির স্থান। এটি ১২তম স্থান অথবা বিবাহের হানিও বটে। ৮ম স্থান বাধা ও প্রতিবন্ধকতার স্থান এবং ৭ম স্থানের জন্য মারক স্থান। সুতরাং যখন ৬ষ্ঠ ও ৮ম পতি ৭ম স্থানে উপস্থিত থাকে তখন তা বৈবাহিক সুখের পক্ষে অশুভ যোগ হয়।
৭ম স্থানে রাহু, মঙ্গল,সূর্যের মতো ক্ষতিকারক উপস্থিতি বিচ্ছেদকে ইঙ্গিত করে। ৭ম স্থানে মঙ্গল কুন্ডলীতে মাঙ্গলিক দোষ সৃষ্টি করে। যদি সূর্য ৭ম স্থানে থাকে তাহলে সঙ্গী বা অংশীদারের মধ্যে দম্ভের লড়াই হতেপারে।
যদি ৭ম পতি নীচস্থ বা পীড়িত হন তবে তাও অসুখী বিবাহের ইঙ্গিত দেয়।
ক্ষতিকর গ্রহের দ্বারা পীড়িত উপপদলগ্নের ২য় স্থান অথবা নীচস্থ গ্রহগুলি বৈবাহিক জীবনের ক্ষতি করে এবং বিবাহের পরিসমাপ্তি ঘটায়।
যখন নভমসায় ৭ম স্থান শনি, রাহু/কেতু, মঙ্গল প্রভৃতি ক্ষতিকর গ্রহের দ্বারা পীড়িত হয় তখন বিচ্ছেদের সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রবল।
যখন বিবাহের সূচক শুক্র , রাশি ও নভমসা উভয় কুষ্টিতেই পীড়িত হয় তখন জ্যোতিষশাশ্ত্রে বিচ্ছেদের ইঙ্গিত বলে ধরা হয়।
জ্যোতিষশাস্ত্রে দ্বিতীয় বিবাহ


বিবাহ বা জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে কোন কোন দিক গুলিতে বিশেষ দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন দেখে নেওয়া যাক -
• জাতকের লগ্ন পতি যে ঘরে অবস্থান করবে তার পঞ্চম অথবা নবম স্থান হবে জাতিকার লগ্ন। অথবা জাতকের লগ্ন পতি বা ভাবটি হবে তুঙ্গ স্থান বা জন্মছকে জাতকের সপ্তম স্থান।
• জাতিকার বিবাহ হবে সেই দিকে যা তার সপ্তম ভাব নির্দেশ করবে। এটা জাতক বা জাতিকার উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
• লগ্ন পতি যদি সপ্তম স্থানে অবস্থান করে এবং তার সঙ্গে যদি অশুভ কোনও গ্রহ যুক্ত হয় তা হলে জাতক বা জাতিকার পরিবার কোনও ভাল বংশের দিকেই নির্দেশ করে।
• সপ্তম পতির দ্রাঘিমা এবং ক্ষেত্রের ডিগ্রির যোগফল থেকেও জাতক বা জাতিকার বিবাহের দিক নির্ণয় করা যায়।
• যদি লগ্ন পতি সপ্তম স্থানে অবস্থান করে এবং জন্মছকে যদি কোনও শুভ গ্রহ তার সঙ্গে একই অবস্থানে থাকে, তাহলে জাতিকার বিবাহ ভাল পরিবারে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
• জাতিকার চালচলন, সৌন্দর্য, বিভিন্ন গুণের উপস্থিতি সবই নির্দেশ করে সপ্তম ভাবের ওপর। অর্থাৎ সপ্তম পতির ওপর অথবা সপ্তম ভাবে কী প্রকার শুভ বা অশুভ দৃষ্টি পড়ছে তার ওপর।
• যদি সপ্তম পতি ও সপ্তম ভাব খুবই শক্তিশালী হয় তাহলে জাতক বা জাতিকার উচ্চ বংশে বিবাহ হয়। কিন্তু যদি সপ্তম ভাব খুবই দুর্বল হয় তা হলে তার স্বামী বা স্ত্রী আপাত দৃষ্টিতে কোনও কুলীন বংশজাত না হওয়ার যোগ নির্দেশ করে।
• যদি চন্দ্র সপ্তম স্থানে অবস্থান করে এবং ওই স্থানে যদি মঙ্গলের দৃষ্টি থাকে বা কোনও গ্রহের শুভ দৃষ্টি পড়ে তা হলে জাতক-জাতিকার দূরে বিবাহ হয়।
• যদি সপ্তম স্থানে চন্দ্র অবস্থান করে এবং ওই স্থানে মঙ্গলের দৃষ্টি পড়ে, তা হলে জাতক-জাতিকার বিবাহের যোগাযোগ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে হয়ে থাকে।



এখন আমরা জ্যোতিষশাশ্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য বিন্যাস বুঝতে পেরেছি। আমরা কুষ্টিতে দ্বিতীয় বিবাহ পরীক্ষা করে দেখতে পারি।দ্বিতীয় বিবাহকে কুষ্টির দ্বিতীয় স্থান থেকে দেখা হয়। ৮ম স্থান দীর্ঘ জীবন কে প্রদর্শন করে।সুতরাং ৭ম স্থান থেকে অষ্টম স্থান যেমন ২য় স্থান জ্যোতিষশাশ্ত্রে দ্বিতীয় বিবাহকে সূচিত করে। তৃতীয় বিবাহের জন্য আমাদের ২য় স্থান থেকে অষ্টম স্থান যথা লগ্ন থেকে ৯ম স্থান কে বিবেচনা করতে হবে।সুতরাং আমাদের রাশি ও নভমসা উভয় কুষ্টিতেই ২য় স্থান ও তার পতির পরিস্থিতি লক্ষ্য করা প্রয়োজন।কিছু মানুষ ৯ম স্থানকে জ্যোতিষশাশ্ত্রে দ্বিতীয় বিবাহের স্থান বলে গণ্য করেন কারণ ৯ম স্থান হল ৭ম স্থান থেকে তৃতীয়।

রাহু” এই নামটির সাথে অনেক ধন্দ এবং ভয় জড়িয়ে আছে। এটি সম্ভবত শনির পরে সব থেকে সাংঘাতিক এবং দুর্বোধ্য গ্রহ। যেকোনো কুষ্টিতে ৭ম স্থানে রাহুর প্রভাব নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সূত্র আমি আপনাদের দেওয়ার চেষ্টা করব। কিন্তু আমরা অবশ্যই মনে রাখব যে ফল এবং তার প্রসার অন্য অনেক বিষয় যেমন দৃষ্টি ভঙ্গি, সংযোগ এবং নক্ষত্র প্রভৃতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। এখানে আমি লগ্নে ৭ম স্থান রাহুর ফল সম্বন্ধে এক সার্বিক ও সাধারণ তথ্য দেব।

৭মস্থানের তাৎপর্য

আরও অগ্রসর হবার পূর্বে আমাদের ৭ম স্থানের তাৎপর্য গুলি জানতে হবে। এটি লগ্নের একদম বিপরীত। সুতরাং লগ্নের দ্বারা যেভাবে একদিকে আমাদের নিজেদেরকে বোঝায় সেইভাবে অপর দিকে ৭ম স্থান আমাদের সঙ্গীকে সূচিত করে। সুতরাং এটি বিবাহ ও সঙ্গীর স্থান হয়। এটি আমাদের কে বিবাহের গুণাগুণ এবং আমাদের বৈবাহিক সঙ্গীর চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তথ্য দেয়। আইনি বিষয়ের ক্ষেত্রে ৭ম স্থান অপরপক্ষকে সূচিত করে। দশমপতি থেকে দশমস্থান হয়ে এটি পেশা/জীবিকার গৌণস্থান হয়। এটি ব্যবসা, ব্যবসার অংশীদার, বিদেশযাত্রা প্রভৃতিকে সূচিত করে। এটি কুষ্টির অন্যতম কেন্দ্র স্থান। কেন্দ্র স্থান গুলি যেকোনো কুষ্টির স্তম্ভ বলে পরিচিত। কুষ্টিতে ৪টি কেন্দ্র স্থান থাকে – ১ম স্থান অথবা লগ্ন, ৪র্থ স্থান, ৭ম স্থান এবং ১০ম স্থান।৭ম স্থানে থাকা যেকোনো গ্রহ ই লগ্নকে সরাসরি প্রভাবিত করবে কারণ প্রত্যেক গ্রহেরই ৭ম রাশি দৃষ্টি থাকে। তাই যখন আমরা ৭ম স্থানে রাহুর মতো ক্ষতিকর গ্রহকে দেখি তখন তা অনেক উদ্বেগ ও ভীতির সৃষ্টি করে। কিন্তু এতে কি সত্যিই চিন্তার কিছু আছে ? আমরা এখন এটা নিয়ে আলোচনা করব।

৭মস্থানে রাহুর প্রভাব কি?

প্রাচীন এবং আধুনিক উভয় যুগেরই অনেক জ্যোতিষী ৭ম স্থানে রাহুর উপস্থিতি কে পুরুষ ও মহিলা উভয়ের জন্যই অশুভ বলে গণ্য করেন । অনেক জ্যোতিষীই ওই স্থানে রাহুর উপস্থিতিকে খুবই অপছন্দ করেন এবং গ্রহের এই বিশেষ অবস্থানের জন্য উদ্ভুত/তৈরী হওয়া বাধা –বিপত্তি কে দমন করার জন্য নানা প্রতিকারের নিদান দেন। কিন্তু আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে কোনো গ্রহই ভালো অথবা মন্দ হয়না। এটা সবটাই সেই প্রতীক যেখানে এটি অবস্থান করে, এটির স্থান, অন্যান্য বিভাগীয় কুষ্টিতে এর পরিস্থিতি প্রভৃতির ওপর নির্ভর করে। এমনকি এটি আরও বেশি প্রযোজ্য কারণ রাহু হল একটি ছায়া গ্রহ। এর নিজস্ব কোনো স্থান নেই। কেউ কেউ মনে করেন যে রাহু ও শনি একসাথে কুম্ভরাশিকে নিয়ন্ত্রণ করে। সুতরাং যেই রাশিতেই রাহু অবস্থান করে সেই রাশির অধিকারী রাহুর কাজের ধরণ কে নিশ্চিত করে। রাহু হল হঠাৎ প্রাপ্তি, বিদেশ, ব্যতিক্রমী চিন্তা ভাবনা, নতুন উদ্ভাবনা, যোগাযোগ, তারকার ন্যায় গৌরব প্রভৃতির সূচক। রাহু নিজের সঙ্গে যুক্ত স্থান অথবা গ্রহের প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করে। বর্তমানে কলি যুগে রাহু পার্থিব বিষয় নিয়ে যেভাবে কাজ করে, আর কোনো গ্রহই কখনোই তা করতে পারেনা। অধিকাংশ রাজনীতিবিদ এবং চলচ্চিত্র অভিনেতাদেরই রাহু এবং শনির অত্যন্ত প্রবল প্রভাব থাকে। রাহু একজন ব্যক্তিকে হঠাৎ করে প্রচুর নাম-যশ ও খ্যাতি এনে দিতে পারে।

রাহুর চরিত্র, লক্ষণ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ

বৈদিক দর্শন অনুসারে রাহু একটি রহস্যময় গ্রহ এবং এটিকে নিষ্ঠুর,বাধা-বিপত্তির প্রভাবক, ব্যক্তির অহংকারী ও আত্মকেন্দ্রিক স্বভাবের কারণ বলে ধরা হয়। এটি মন্দ বা অশুভ চিন্তা ভাবনাকে ও প্রভাবিত করে। রাহু আকাশের উপাদান গুলির প্রতীক এবং পুরুষ ও মহিলার মধ্যে ভয় ও রাগের সঞ্চারের ক্ষেত্রে এর কুখ্যাতি রয়েছে। রাহু একটি রহস্যময় গ্রহ যা সাধারণত একজন ব্যক্তির অপ্রকাশিত কার্যকলাপ এবং তার মানসিক দৃষ্টিকোণ নিয়ে কাজ করে।

ধর্মগ্রন্থ অনুসারে রাহুকে সর্পের/সাপের মাথাবিশিষ্ট এক সত্তা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে যার কোনো শরীর নেই। এর চরিত্রে আরও কিছু বৈশিষ্ট্য দেখা যায় যেমন গোপন বিষয়, কৌতুহল ও অসহিষ্ণুতা। যেসব ব্যক্তির রাহু শক্তিশালী তারা রহস্যময়তাকে বোঝার ও দ্রুত সাফল্য পাবার প্রশস্ত পথ খুঁজে পাবার ক্ষমতা অর্জন করে। যারা গোয়েন্দা বা তদন্তকারী,গবেষক, কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, সাইক্রিয়াটিষ্ট, রাজনীতিবিদ, সেল্সম্যান প্রভৃতি হিসেবে তাদের কর্মজীবন শুরু করতে চান তাদের পক্ষে রাহু শুভ। যে ব্যক্তির রাহু শক্তিশালী তিনি বেতার মাধ্যম, জ্যোতিষশাশ্ত্র, ঔষধসংক্রান্ত বিষয় নিয়েও ভালো কর্মজীবনের সূচনা করতে পারেন।

এটা খুব আকর্ষণীয় বিষয় যে যেসব ব্যক্তি নৌকা, চিত্রাঙ্কন, একাধিক যৌন সঙ্গী বা বহুগামিতা, গুহাজীবন ও আরও অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে জড়িত তাদের ওপর প্রভাবের জন্য রাহুই দায়ী। আকাশের উপাদান গুলির সূচক হওয়ার জন্য রাহু উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টারে আকাশ পথে যাত্রার জন্যেও দায়ী। শনির মতো রাহুরও বিচ্ছেদের প্রবণতা থাকে, তাই অনেক সংসার এমনকি ব্যবসার অংশীদারিত্বও ভেঙেযায়। এটা বৈবাহিক ও সাংসারিক কলহ এবং আরও অন্যান্য বিবাদের জন্য দায়ী হয় যা একটা সংসারকে ভেঙে দিতে পারে।

রাহুর ফল সবসময় আকস্মিক ভাবেই ঘটে এবং কেউই সঠিক ভাবে কোনো নির্দিষ্ট সময় সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারেনা। মনুষ্য সমাজে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি শ্বশুরবাড়ি এবংমাতৃকুলের সঙ্গে সম্পর্কে প্রভাব ফেলে। মানব শরীরে চর্মরোগ, অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ এবং স্নায়ুরোগ যেমন তোতলামি, পক্ষাঘাত, কর্কটরোগ, খাদ্যে বিষক্রিয়া, বিষাক্ত সর্পাঘাত, উচ্চতা ও শব্দের থেকে আতঙ্ক এবং আরওঅনেক কিছু রাহুর কারণে হয়।

লগ্নের ৭ম স্থানে রাহুর প্রভাব গুলি কি কি?

৭মস্থানে রাহুর প্রভাব গুলি বিস্তারিত ভাবে নীচে আলোচনা করা হল।

যেহেতু ৭মস্থান ব্যবসা বা অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে কাজ করে সেইজন্য সেই ব্যবসায়ী যার ৭ম স্থানে রাহু থাকে তিনি লোভ-লালসার দ্বারা চালিত হন এবং অনৈতিক পথে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে অংশ নেন। ফলে কর্পোরেট জগতে তার মর্যাদা কালিমালিপ্ত হয়এবং নিঃস্ব/দেউলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
৭মস্থান যুদ্ধ, সংঘর্ষ ওআধিপত্যের প্রতীক, রাহু এই স্থানে অধিষ্ঠান করার জন্যে সেইব্যক্তি পেছন থেকে আঘাত করে কিন্তু সাহসিকতার সাথে তার প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে পারেনা। ৭ম স্থানে রাহু থাকা ব্যক্তির সাহসিকতার অভাব দেখাযায় এবং শত্রুকে পরাস্ত করার জন্য মাঝেমধ্যে অনৈতিক পন্থাও অবলম্বন করে এবং এটা কথা বা কাজ যেকোনো ভাবেই হতে পারে।
যদিও ৭ম স্থানে রাহুর উপস্থিতির অশুভ প্রভাব আছে, তবুও এর কিছু শুভ প্রভাব আছে যেমন বারংবার বাধা-বিপত্তির সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য হৃদয় শক্ত হয় এবং উন্নত জীবনের আশা জোগায়।
যেহেতু ৭ম স্থান মারক স্থান তাই ঐ স্থানে রাহুর উপস্থিতি স্বাস্থ্যের পক্ষে ও শুভ নয়। যেহেতু গোপন বা গুপ্ত বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত তাই মাঝেমধ্যে যৌন জীবন ও দক্ষতার সাথে সম্পর্কিত রোগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এটাও দেখা গেছে যে রাহুর এই অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি রোগ ভোগ করে এবং অবস্থা শোচনীয় না হওয়া পর্যন্ত তা প্রকাশ পায়না।
৭ম স্থানে রাহু থাকা ব্যক্তিরা ডায়াবেটিস/বহুমূত্র রোগ এবং হৃদরোগের শিকার হন। এমনকি ব্যক্তিরা প্রজনন অঙ্গ ও স্নায়ুতন্ত্র সম্পর্কিত রোগেরও শিকার হন।
৭ম স্থানে রাহুর অশুভ প্রভাব গুলি ভিন্ন ভিন্ন মানুষের ক্ষেত্রে ভিন্ন হয়। এটি ব্যক্তির কুষ্টির অন্যান্য বিষয় গুলোর ওপরেও নির্ভর করে। যে প্রভাব গুলি গোপন অঙ্গের রোগ ভোগের ক্ষেত্রে কাজ করে তা শক্তিশালী মঙ্গল থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে নাও ঘটতে পারে। সিংহ ও বৃষ রাশির জাতকেরা সাধারণত রাহুর দ্বারা উৎপন্ন বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে উঠতে পারেন।
৭ম স্থানে রাহুর কিছু গোলমেলে ও বিরক্তিকর প্রভাব হল যে এতে প্রভাবিত ব্যক্তি তার যে কোনো পেশাগত কাজে সাফল্যের জন্য বা কোনো প্রকার উপহার ও অর্থ উপার্জনের জন্য সুবিধা লাভের জন্য তার বৈবাহিক সঙ্গী বা ঘনিষ্ঠজন কে ব্যবহার করে। যখন ৭ম স্থানে রাহুর সঙ্গে মঙ্গল অবস্থান করে তখন স্ত্রী এমন কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন যা তার স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে গোপন রাখা হয়। যাইহোক ,যদি এই স্থানে রাহুর সঙ্গে শনি অবস্থান করে তখন সেই ব্যক্তি তার নিজের ভালো অথবা মন্দ যেকোনো ইচ্ছা পূরণের জন্য নিজের সঙ্গীকে চাপ দিতে বিন্দুমাত্র কুন্ঠা বোধ করে না।
যে ব্যক্তির ৭ম স্থানে রাহু থাকে তিনি কখনো কখনো অলস , বদমেজাজি হন , এরা কোনো উদ্বেগ জনক পরিস্থিতি তে চাপ নিতে অনিচ্ছুক হন এবং কর্ম জীবনে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা জীবনেও বাধা-বিপত্তি থাকে।
যখন ৭ম স্থানে রাহু অবস্থান করে তখন সেই ব্যক্তি সম্পত্তি ও আরও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আইনি সমস্যার সম্মুখীন হন।এই সমস্যা গুলির সমাধান আশানুরূপ ভাবে দ্রুত হয় না , তাতে বিলম্ব হয়।
যখন রাহু ৭ম স্থানে অবস্থান করে তখন সে ৩য় স্থানের ওপর দৃষ্টি দেয়, এই ৩য় স্থান প্রতিবেশীকে বোঝায়। সুতরাং প্রতিবেশীর সাথে সম্পর্ক নিয়ে চূড়ান্ত ভাবে কষ্ট ভোগ করতে হতে পারে।
আমরা সবাই জানি যে ১০ম স্থান হল জীবিকা, পেশা বৃত্তির স্থান। সুতরাং ভবৎভব ম্নীতি অনুসারে, ৭ম স্থানের অবস্থান হল ১০ম স্থান থেকে ১০ ঘর দূরে। সুতরাং এটি পেশার গৌণ স্থান হয়।যখন রাহু এই স্থানে অবস্থান করে তখন একজন ব্যক্তি নানা প্রকার মানসিক চাপ ও সমস্যার সম্মুখীন হন এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এটা তার পেশা বা কর্ম জীবনের ক্ষতি করতে পারে।
৭ম স্থান বিবাহে রাহুর প্রভাব

জ্যোতিষীদের অধিকাংশই ৭ম স্থানে রাহুর উপস্থিতিকে অপছন্দ করেন কারণ এটি বৈবাহিক সঙ্গীর সঙ্গে বিচ্ছেদ এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিবাদ ঘটায়। যেহেতু রাহু তার সঙ্গে যুক্ত থাকা স্থান বা গ্রহের শক্তি বৃদ্ধি করে, তাই এটা মানুষকে তার সঙ্গীর প্রতি আবিষ্ট করে তোলে।যেহেতু এটা ভিন্ন জাত বা সংস্কৃতিকে সূচিত করে,তাই আন্তঃবর্ণ বিবাহ ঘটাতে পারে।আপনি ৭ম স্থানের গ্রহগুলি থেকে আপনার সঙ্গীর চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে পারেন। যেহেতু রাহু একটি বিচ্ছেদ মূলক গ্রহ, এটি বৈবাহিক জীবনে সংঘর্ষ, বিবাদ সৃষ্টির চেষ্টা করে। যখন রাহু ৭ম স্থানে অবস্থান করে তখন বৈবাহিক জীবন স্বার্থের সংঘাতে বিষাক্ত হয়ে ওঠে। যে ব্যক্তির রাহু এই স্থানে থাকে তারা সর্বদা তাদের সঙ্গীর সম্বন্ধে সন্দেহপ্রবণ হয়।নভমসায় ৭ম স্থানে রাহুর উপস্থিতি আরও বিপজ্জনক। যেহেতু নভমসা বিবাহের প্রধান বিভাগীয় কুষ্টি, তাই আপনার জানা উচিৎ কিভাবে নভমসা থেকে বিবাহ ও বিবাহ জীবনের গুণা গুণ পরীক্ষা করবেন। নভমসায় ৭ম স্থানে রাহুর উপস্থিতি সুখী দাম্পত্য জীবনের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর।এই স্থানে পীড়িত রাহু থাকলে সেই ব্যক্তির বিবাহ পরবর্তী সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা থাকে এবং তিনি ভিন্ন জাতে/সম্প্রদায়ে বিবাহ করেন বলে জানা যায়।যদি রাহু পীড়িত হয় তখন এই গ্রহ জনিত স্থানের ব্যক্তির ব্যভিচার ও নাস্তিকতার প্রতি প্রবল ঝোঁক লক্ষ্য করা যায়।পুরুষদের কুষ্টির চেয়ে মহিলাদের কুষ্টির ক্ষেত্রে এইস্থান বেশি ক্ষতিকর।

যদি কোনো ব্যক্তির কুষ্টিতে ৭ম স্থানে রাহুর সন্ধান পাওয়া যায় তবে তা অবশ্যই স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্যে সমস্যা সৃষ্টি করবে। একজন সর্বদাই তার সঙ্গীর ত্রুটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করে থাকেন এবং দীর্ঘ সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন।৭ম স্থান মহিলাকে প্রভাবিত করে যার ফলে সেই মহিলার কৃত কর্মের জন্য তার পরিবারের ভাবমূর্তি কালিমা লিপ্তহয়।এছাড়াও মহিলা তার প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে সংঘাত খুঁজে পান এবং বৈবাহিক জীবন ও সুখের হয় না যতক্ষণ পর্যন্ত না সেই প্রভাবকে প্রশমিত করা হয়। একমাত্র একজন প্রকৃত ও অভিজ্ঞ জ্যোতিষীরই রাহুর প্রভাব প্রশমিত করার দক্ষতা থাকে। ৭ম স্থানে রাহুর প্রভাব বিবাহের জন্য আরও ক্ষতিকর হয় যখন কুষ্টির ৮ম স্থানকে শনি অধিকার করে থাকে ।

৭ম স্থানের রাহু কম বয়সী মানুষদের মধ্যে বিনাশ কারী বৈশিষ্ট্যকে প্রভাবিত করে।এরফলে প্রেম জীবনে ক্ষণস্থায়ী সম্পর্কের প্রতি আগ্রহ এবং স্থায়ী সম্পর্কের প্রতি অনীহা দেখা যায়

আমার মতে জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদ বর্তমান সময়ে আলোচনার জন্য খুবই প্রাসঙ্গিক একটি বিষয়। বর্তমানে আমাদের সমাজে বিচ্ছেদের সংখ্যা উল্লেখ যোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রচুর মানুষ বৈবাহিক বিরোধিতার সম্মুখীন হচ্ছেন। আমার কর্ম জীবনে বহু মানুষ আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন যে তাদের কুণ্ডলীতে বিবাহ বিচ্ছেদের যোগ আছে কিনা। এখানে আমি চেষ্টা করব কিছু অধিকাংশ করা প্রশ্নের উত্তর দেবার, যেমন জ্যোতিষশাশ্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ, বৈদিক জ্যোতিষ শাস্ত্রে স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য কোন গ্রহ গুলি সবথেকে বেশি দায়ী ,জন্মপত্রিকায় বিবাহ বিচ্ছেদের যোগ প্রভৃতি।

বিবাহ স্থির হয় স্বর্গ থেকে কিন্তু বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত এই পৃথিবীতেই নেওয়া হয়। একটি সুখী দাম্পত্য জীবন আমাদের জীবনে সার্বিক বৃদ্ধি, সুখ ও সমৃদ্ধি আনে। কিন্তু সবাই খুব ভাগ্যবান হয় না। বিবাহ বিচ্ছেদের অনেক কারণ থাকতে পারে কিন্তু এখানে আমরা শুধুমাত্র জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের সূচকগুলি নিয়ে আলোচনা করব। কিন্তু আমি আপনাদের পরামর্শ দিতে চাই যে জন্মপত্রির যথার্থ মিলন বৈবাহিক বিরোধের সম্ভাবনা হ্রাস করতে পারে। কিন্তু কুন্ডলীর মিলনের ক্ষেত্রে অষ্টকূট গুণের মিলন যথার্থ পন্থা নয়। বিবাহের জন্য যথার্থ কুন্ডলীর নির্ধারণ হল কুষ্টিতে

জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্যে দায়ী গ্রহ এবং স্থান সমূহ

ক্ষতিকর গ্রহ, বিশেষত মঙ্গল, রাহু, শনি এবং সূর্য বিচ্ছেদ মূলক চরিত্রের হয়। তাই এই গ্রহ গুলি কুন্ডলীতে বিবাহ বিচ্ছেদের অনুঘটকের ন্যায় কাজ করে। এগুলো ছাড়া আরও দুটি গ্রহও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষতিকর প্রভাব থাকা সত্বেও বিবাহ বিচ্ছেদ এড়ানোর ক্ষেত্রে খুব কার্যকরী। প্রেম, ভালোবাসা, বিবাহ ও যৌন জীবনের ক্ষেত্রে প্রধান গ্রহ হল শুক্র। পুরুষদের কুষ্টির ক্ষেত্রে এটি স্ত্রীকেও সূচিত করে, সুতরাং শুক্র যদি পীড়িত, দুর্বল বা অবনতিশীল হয় তবে তা বৈবাহিক অস্থিরতার লক্ষণ। মহিলাদের কুষ্টির ক্ষেত্রে বৃহস্পতি স্বামীকে সূচিত করে। সুতরাং বৃহস্পতি যদি দুর্বল বা পীড়িত হয় তবে তা স্বামীর দিক থেকে দুঃখের লক্ষণ।

জন্মপত্রিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহ যা বিবাহ বিচ্ছেদের লক্ষণ

জ্যোতিষ শাস্ত্রে বৈবাহিক স্থিরতা ও অস্থিরতা এবং বিবাহ বিচ্ছেদের বিচারের জন্য প্রধান স্থান হল ৪র্থ,৭ম, ৮ম এবং ১২তম স্থান। এছাড়াও আমাদের উপপদলগ্ন ও তার ২য় স্থান পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

৪র্থ স্থান হল পরিবারের থেকে আনন্দ। যখন ৪র্থ স্থান বা তার মালিক পীড়িত হয় তখন পরিবারে সুখের অভাব দেখা দেয়। যদি ৪র্থ স্থান শক্তিশালী হয় ও তার মালিক সঠিক স্থানে থাকেন তবে জ্যোতিষশাশ্ত্রে অন্যান্য বিবাহ বিচ্ছেদের যোগ থাকা সত্বেও তা কখনোই চূড়ান্ত পরিণাম হবে না।

৭ম স্থান হল বিবাহের প্রধান স্থান। এটা শুধু বিবাহের ক্ষেত্রে না হয়ে সবধরণের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও কার্যকরী। সুতরাং যখন ৭ম স্থান পীড়িত হয় ও তার মালিক দুর্বল হয় তাহলে এটা বোঝায় যে সেই ব্যক্তির ভাগ্যে সুখী বৈবাহিক জীবন থাকেনা। যদি সেখানে কোনো প্রতিরোধক না থাকে তবে সে বিবাহ নিয়ে ভুক্তভোগী হবে।

৮ম স্থান ব্যক্তির যৌন জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে। সমস্ত স্থানের মধ্যে ৮ম স্থান হল সবচেয়ে অশুভ/ দুষ্ট স্থান। এটা জীবনের গোপন বিষয় নিয়ে বাধা বিপত্তির উদ্রেক করে। মোটের ওপর ৭ম স্থানের দিক থেকে দ্বিতীয় হয়ে এটা বিবাহের সমৃদ্ধির জন্য দায়ী হয়। যদি ৮ম স্থান পীড়িত হয় তখন ৮ম স্থানের মালিক ৭ম স্থান বা তার মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। এটা বিবাহের পক্ষে সবদিক থেকে নেতিবাচক হয়। এটা জ্যোতিষশাশ্ত্রে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের প্রধান স্থান।

১২তম স্থান যৌনকামনা তৃপ্তির স্থান বলে পরিচিত। ১২তম স্থান পীড়িত হলে যৌন জীবন দুঃখের হয় এবং যৌনজীবনের প্রতি আগ্রহের অভাব দেখা যায়।

অবশেষে আমাদের উপপদলগ্নের পরিস্থিতি দেখতে হবে। এটা হল ১২তম স্থানের অরুধা পদ। যেমন আপনি যদি বৃষলগ্ন নিয়ে জন্মান তাহলে আপনার ১২তম স্থানের মালিক হবেন মঙ্গল। যদি মঙ্গলকে কর্কটে স্থানান্তরিত করা হয় তবে তা ১২তম স্থান থেকে ৪ চিহ্ন দূরে হবে। আমরা আবার উপপদলগ্ন পাবার জন্য কর্কট থেকে ৪টে চিহ্ন গণনা করব। কর্কট থেকে ৪টে চিহ্ন যেমন তুলা হবে উপপদলগ্ন।

উপপদলগ্ন একজন ব্যক্তির সঙ্গে তার বৈবাহিক সঙ্গীর সম্পর্ক কেমন হবে তা প্রদর্শন করে। যদি শুভ ফল প্রদানকারী গ্রহগুলি উপপদলগ্নের সঙ্গে থাকে তবে তা সুখী দাম্পত্যকে সূচিত করে। জীবন সঙ্গীর চরিত্র, ধরন ও পূর্ব পরিচয় বিচারের ক্ষেত্রে উপপদলগ্নের মালিক ও তার সঙ্গে থাকা গ্রহগুলির গুরুত্ব অপরিসীম। উপপদলগ্নের থেকে দ্বিতীয় স্থান বিবাহের স্থিরতা বা স্থিতিশীলতা কে প্রদর্শন করে। যদি উপপদলগ্ন থেকে দ্বিতীয় স্থানে ক্ষতিকর গ্রহ যেমন রাহু, মঙ্গল অথবা তাদের ক্ষতিকর প্রভাব থাকে তবে তা জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের সম্ভাবনাকে সূচিত করে।

জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদ গণনার প্রাথমিক নীতি

জ্যোতিষশাশ্ত্রে অসংখ্য বিবাহবিচ্ছেদের যোগ আছে এবং তাদের সকলকে মনে রাখা খুবই কঠিন। সুতরাং আমি জ্যোতিষশাশ্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ নিয়ে আলোচনা করছি।

যদি লগ্নে ৭ম স্থানের মালিক ১২তম স্থানের মালিক ও রাহুর সঙ্গে যুক্ত থাকে তবে তা জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। যদি ১২তম স্থানের মালিক ৭ম স্থানে রাহুর সঙ্গে থাকে অথবা যদি ৭ম ও ১২তম স্থানের মালিক পারস্পরিক বিনিময়ের সম্পর্কে থাকে এবং রাহু গ্রহগুলির মধ্যে কোনো একটির সাথে যুক্ত থাকে তবে বিবাহ বিচ্ছেদের সম্ভাবনা প্রবল।
যখন মঙ্গল ও শনির রাশিতে জন্ম হয় তখন যদি শুক্র লগ্নে অধিষ্ঠান করে এবং ৭ম স্থান পীড়িত হয়, স্ত্রী সঙ্গীকে ত্যাগ করে। চন্দ্র ও শুক্রের উপস্থিতি কে বিবাহ জীবনের পক্ষে অশুভ ধরা হয়। যদি এই বিন্যাস ক্ষতিকর প্রভাব দ্বারা পীড়িত হয় তখন কোষ্ঠী তে বিচ্ছেদের প্রবল লক্ষণ দেখা যায়।
জ্যোতিষশাশ্ত্রে বিচ্ছেদের অন্যতম শক্তিশালী বিন্যাস হল ৭ম স্থানে পীড়িত সূর্যের উপস্থিতি অথবা ৭ম স্থানের দুর্বল মালিকের সঙ্গে উপস্থিতি। এটা বিচ্ছেদের আরও বেশি প্রবল লক্ষণ হয় যখন শুক্র ও রাহু অথবা শনি ও রাহুও লগ্নে অবস্থান করে।
৬ষ্ঠ স্থান কোর্টে মামলা মোকদ্দমা প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা কোর্টের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করতে পারি না। যখন ৬ষ্ঠ স্থানের মালিক ৭ম স্থানে থাকে বা তার বিপরীত হয় বা ৬ষ্ঠ এবং ৭ম স্থান একসঙ্গে থাকে তখন দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর বিচ্ছেদ ঘটে। ৬ষ্ঠ স্থান হল ৭ম স্থান থেকে দ্বাদশতম, সুতরাং এটি বিবাহের হানি ঘটায়। যখনই ৬ষ্ঠ স্থান বা তার মালিক বিবাহের সূচক শুক্রের সাথে যুক্ত হয়, তখন বিবাহ বিচ্ছেদ ডেকে আনতে পারে। ৭ম স্থানেও বিভিন্ন গ্রহ যেমন মঙ্গল, রাহু, শনি, সূর্য প্রভৃতির প্রভাব থাকে। এটা লক্ষ্য করা যায় যে ৪র্থ স্থান যখন ৬ষ্ঠ বা ৪র্থ স্থানের মালিকের দ্বারা পীড়িত হয় এবং ৬ষ্ঠ স্থান সঙ্গে থাকে তখন বৈদিক জ্যোতিষশাশ্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদ সম্ভাবনা খুবই প্রবল।
যদি ৭ম স্থানের মালিক পীড়িত হয় এবং মঙ্গল, রাহু, সূর্য প্রভৃতি গ্রহেরা ৮ম স্থানে থাকে তাহলে জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদ গণনা করা যায়। যদি ৭ম স্থান পাপকর্তারী যোগের মধ্যে পড়ে তাহলেও বৈদিক জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিচ্ছেদের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
যদি ৭ম পতি বক্রী হয় এবং ৮ম স্থান রাহু, মঙ্গল, সূর্য বা শনির পীড়িত হয় তখন বিবাহ বিচ্ছেদের সম্ভাবনা থাকে। এই বিন্যাস সঙ্গে নিয়ে শুক্রও যদি বক্রী হয় তাহলে পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়।
যদি ১২তম স্থানের মালিক ৪র্থ স্থানে থাকে অথবা ৪র্থ স্থানের মালিক যদি ৬ষ্ঠ, ৮ম বা ১২তম স্থানে থাকে, ৭ম স্থান যদি রাহু, সূর্য, শনি অথবা মঙ্গলের দ্বারা পীড়িত হয় এবং বিবাহের সূচক শুক্রও যদি দুর্বল বা পীড়িত হয় তবে কুষ্টিতে বিচ্ছেদের যোগ প্রবল।
নভমসা লগ্ন থেকে ৭ম স্থানে ক্ষতিকর প্রভাব থাকলে এবং কুষ্টিতেও বিচ্ছেদের যোগ দেখালে তখন বিচ্ছেদ অবশ্যম্ভাবী বলা যায়।
যদি রাহু–কেতু নভমসা লগ্নের ১ম–৭ম অক্ষে অবস্থান করে তাহলে এটা জ্যোতিষ শাস্ত্রে অসুখী বিবাহজীবনের প্রবল যোগ থাকে। যদি নভমসায় বিবাহের সূচক দুর্বল বা পীড়িত হয় তবে আরও অশুভ ফল দেবে।
নভমসা কুষ্টিতে আমাদের নভমসা লগ্ন লক্ষ্য করতে হবে, ৭ম এবং ৮ম স্থান। যদি এইস্থান এবং তার মালিকেরা পীড়িত হয় তখন বিচ্ছেদের সম্ভাবনা বাড়ে। আমাদের নভমসা কুষ্টিতে রাশি ঘরের ৭ম স্থানের মালিকের পরিস্থিতি লক্ষ্য করতে হবে। নভমসায় শুক্র–কেতুর সংযোগ হল বিচ্ছেদের প্রবল লক্ষণ।
উপপদ লগ্ন থেকে দ্বিতীয় স্থান যদি শনি, মঙ্গল, রাহু বা কেতু প্রভৃতি ক্ষতিকর গ্রহের দ্বারা পীড়িত হয় তাহলে তা বিবাহ ভেঙে দিতে পারে। যখন উপপদলগ্ন কেতুর দ্বারা সংযুক্ত হয় এবং শুক্র ১২তম স্থানে থাকে তখন তা বিচ্ছেদ এবং দুঃখজনক বৈবাহিক জীবনকে সূচিত করে।
এই গুলি হল বৈদিক জ্যোতিষশাশ্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদ প্রধান মৌলিক নীতি। আমাদের লগ্ন, চন্দ্র এবং নভমসা থেকেও এই পরিস্থিতি গুলি লক্ষ্য করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে গুরুতর পীড়ন থাকা সত্বেও বৃহস্পতির প্রভাব বিবাহজীবন কে রক্ষা করতে পারে।

জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের সময়

এখন জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের সময় বোঝার চেষ্টা করি। ৭ম স্থানের মালিকের নিজের দশাতেই বিচ্ছেদ ঘটতে পারে, যদি এটি ৬ষ্ঠ অথবা ৮ম স্থানের সাথে যুক্ত থাকে। ৪র্থ স্থানকে পীড়িত করা গ্রহগুলির সময় কালেও বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটতে পারে, বিশেষত যখন তারা ৬ষ্ঠ, ৮ম এবং ১২তম স্থানেরও মালিক হন। জন্মপত্রিতে বিচ্ছেদ রাহু, মঙ্গল অথবা শনির সময়কালেও ঘটতে পারে, যদি তারা ৪র্থ, ৭ম অথবা ১২তম স্থানের সাথে যুক্ত থাকে এবং বিচ্ছেদ যোগের বিন্যাস তৈরী করে।

বিবাহ বিচ্ছেদের পরে অনেক মানুষ পুনরায় বিবাহ করেন। কিন্তু সবাই দ্বিতীয় বার হলেও সুখীদাম্পত্য জীবন পাবার মতো ভাগ্যবান হননা ।পরীক্ষা করুন আপনার কুষ্টিতে ২য় বিবাহের যোগ আছে কিনা

জ্যোতিষ শাস্ত্রে কুষ্টিতে বিবাহ বিচ্ছেদের প্রতিকার

গৌরী-শঙ্কর রুদ্রাক্ষ সঠিকপদ্ধতিতে রাখুন।এটা খুব কার্যকরী।
প্রতিদিন ভগবান শিব এবংমাতা পার্বতীর পূজা করুন।
বিবাহের পূর্বে কুষ্টির মিলন করানো উচিৎ
প্রতিদিন ললিতা সহস্রনামা পাঠ করা উচিৎ।
বৈদিক জ্যোতিষশাশ্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদ কে কিভাবে দেখতে হবে তার প্রচেষ্টা করলাম। আপনি আমার কাছে জ্যোতিষশাশ্ত্রের পরামর্শ নিতে পারেন।

যদি আপনি মনে করেন যে আমি কিছু বাদ দিয়েছি ,তাহলে মন্তব্য করতে ভুলবেন না। যদি আপনার এটা পছন্দ হয় তবে শেয়ার করুন।


কিছু মানুষ ১১তম স্থানকে জ্যোতিষশাশ্ত্রে দ্বিতীয় বিবাহের স্থান হিসেবে ব্যবহার করার উপদেশও দেন।কিন্তু প্রখ্যাত জ্যোতিষী শ্রী সঞ্জয় রথের মতে ২য় স্থানকে দ্বিতীয় বিবাহের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উচিৎ এবং আমিও বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে এর সত্যতা খুঁজে পেয়েছি। পাঠকেরা ২য়,৯ম অথবা ১১ তম স্থানকে দ্বিতীয় বিবাহ গণনার জন্য ব্যবহার করে তার পরিণাম দেখতে পারেন।

উপপদ লগ্ন থেকে ৮ম স্থান জ্যোতিষশাশ্ত্রে দ্বিতীয় বিবাহকে সূচিত করে। সুতরাং উপপদলগ্ন থেকে ৮ম স্থান দ্বিতীয় সঙ্গী ও তার সঙ্গে সম্পর্কের সাথে যুক্ত মায়াকে প্রদর্শন করে।

কিন্তু আমাদের একটা জিনিস অবশ্যই মনে রাখতে হবে, প্রথম বিবাহের সমাপ্তির পরেও আমরা ৭ম স্থানকে অবজ্ঞা/অবহেলা করতে পারিনা।এটি শরীরের যৌন অঙ্গগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং এটি বিবাহের খুব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

কুষ্টিতে একাধিক বিবাহের বিন্যাস

৭ম স্থানে একাধিক গ্রহের অবস্থান, বিশেষত রাহুর মতো গ্রহ এর সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।
যদি ২য় ও ৭ম স্থানের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব থাকে তখন একাধিক বিবাহ ঘটতে পারে।
৭ম পতি ৪র্থ স্থানে অবস্থান করলে বা ৯ম পতি ৭ম স্থানে অবস্থান করলে তা দ্বিতীয় বিবাহের ইঙ্গিত।
মঙ্গল+শুক্র যখন ৭ম স্থানে থাকে ও ৭ম পতি ৮ম স্থানে থাকে এবং শনির অবস্থান ১২তম স্থান হয়, তখন তা জ্যোতিষশাশ্ত্রে একের বেশি বিবাহের ইঙ্গিত বলে ধরা হয়।
দশা-অন্তর্দশা অবশ্যই পুনর্বিবাহকে সমর্থন দেয়।
যখন ৭ম পতি উচ্চস্থ হয় এবং ভার্গোত্তম হয় তখন দ্বিতীয় বিবাহের সম্ভাবনা থাকে।
যদি ৭ম স্থান দ্বৈত রাশি হয় অথবা ৭ম পতি দ্বৈত রাশিতে অবস্থান করে তখন একের বেশি বিবাহ ঘটতে পারে। মিথুন,ধনু এবংমীন দ্বৈত রাশি বলে পরিচিত।
সুখী পুনর্বিবাহের শর্তাবলি

যদি লগ্নের ২য় স্থান শক্তিশালী হয় এবং ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত হয়, তখন তা দ্বিতীয় বিবাহে খুশি আনতে পারে।

যখন নভমসায় ২য় স্থান ও তার পতি শক্তিশালী হন এবং তার উপস্থিতি লাভজনক হয় তখন সেটি শুভ দ্বিতীয় বিবাহের ইঙ্গিত।

উপপদ লগ্নে ৮ম স্থানকে দ্বিতীয় বিবাহের জন্যগণ্য করতে হবে।যখন এই স্থানে শুভ দৃষ্টি থাকে এবং এর পতির অবস্থান শুভ হয় তখন সুখী দ্বিতীয় বিবাহের ইঙ্গিত প্রদর্শন করে। আমাদের এই নতুন উপপদের ২য় স্থান যেমন উপপদলগ্নের ৯ম স্থানকে লক্ষ্য করতে হবে।জ্যোতিষশাশ্ত্রে একটি শুভ দ্বিতীয় বিবাহের জন্য উপপদলগ্নের ৯ম স্থানে কোনো ক্ষতিকর গ্রহের উপস্থিতি থাকা উচিৎ নয়।

আমরা কিভাবে বৈদিক জ্যোতিষশাশ্ত্রে দ্বিতীয় বিবাহ কে বিবেচনা করব সেই সম্বন্ধে আমি কিছু তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করলাম।কিন্তু এদের আক্ষরিক ভাবে ব্যবহার করবেন না। জ্যোতিষশাশ্ত্রের নীতি গুলি বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে না। আমাদের কে দৃষ্টিকোণ, সংযুক্তি, বিভাগীয় কুষ্টি, নক্ষত্র, প্রভৃতি দিক থেকে একে বিবেচনা করতে হবে।

যদি আপনার প্রয়োজন হয় তবে আমার কাছে জ্যোতিষশাশ্ত্রের পরামর্শ নিতে পারেন এবং বিবাহ গণনা করাতে পারেন।

যদি আপনি মনে করেন যে আমি কিছু বাদ দিয়েছি, তাহলে মন্তব্য করতে ভুলবেন না। যদি আপনার এটা পছন্দ হয় তবে শেয়ার করুন।


হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র‬ রোজ পাঠ করুন রত্ন ধরনের প্রয়োজন নাই

আপনি কি জানতে চান আপনার ভাগ্যের অনুকূল ও প্রতিকূল পরিস্থিতি গুলি কি কি?? এবং অনলাইন poriseva পরিষেবা পেতে চান

তাহলে এখুনি আপনার জন্ম তারিখ , জন্ম সময় , জন্ম স্থান এই website www.arcsm.in গিয়ে ১০০০টাকা দিয়ে registration করুন আপনা কে সমস্ত বিষয় সম্পর্কে জানানো হবে ..ও কুন্ডলী (pdf )ও প্রতিকার লিখে প ঠানো হবে।
অনলাইন ছাড় 500টাকা
সাধারণ ক্ষেত্রে 1500

সকল শাস্ত্রের মূল কথা হল কেবল ভক্তিভরে হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্ত্তণ করা ৷

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে,
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ৷ গ্রহ রত্নের প্রয়োজন নাই

জয় শ্রী কৃষ্ণ জয় মা তারা জয় মা সন্তোষী ঈশ্বর এক অনন্ত
ভিডিও টা দেখুন ভালো লাগলে সাবস্ক্রাইব ও শেয়ার করুন

https://youtu.be/0FC2NeuQb1I

Astro Research Centre
Lob Mukherjee Govt.Enrolled &Enlisted Astrologer Founder of Astro Research Centre ph 8906959633 /9593165251 Email --lobmukherjeejsmarc@gmail .com Add--Rampurhat .Harisava para.Birbhum. please like and share my page --Astro Research Centre contact www.arcsm.in
My website- arcsm.in
Please visit here
For Registration check in here.
All kind of Gems Stone are Testing here
All Kind of Certified Gems and Stone available here

পাইকারী ও খুচরা মূল্যে সকল প্রকার রত্ন পাওয়া যায়
রত্ন ব্যবসায়ীরা ও জ্যোতিষ বন্ধুরা যোগাযোগ করুন


Axis Bank

A/C No 917010026448091
Branch - Rampurhat
Branch Code --1131
IFSC Code -UTIB0001131

এছাড়া Google pay BHIM এবং phone pe তে টাকা পাঠাতে পারেন

বিঃ দ্রঃ স্হায়ী সদস্যপদ Membership rs 2400 সমস্ত প্রকার রত্নের উপর 20%ছাড় দেওয়া হবে



আমার নতুন youtube channel

https://www.youtube.com/channel/UCFgC3ww0Soj5GOrXjKuFJtw



Blog Url:
https://arcsm.in/blog.php?blog=20200430150922