Monday, May 31st, 2021

Astro Research Centre

দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ির ১৬৭ তম প্রতিষ্ঠা দিবস। ১৮৫৫ সালের ৩১মে , ১৮ই জ্যৈষ্ঠ , বৃহস্পতিবার , পুণ্য স্নানযাত্রার দিনে দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন লোকমাতা রানী রাসমণি।

আজ দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ির ১৬৭ তম প্রতিষ্ঠা দিবস।
১৮৫৫ সালের ৩১মে , ১৮ই জ্যৈষ্ঠ , বৃহস্পতিবার , পুণ্য স্নানযাত্রার দিনে দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন লোকমাতা রানী রাসমণি।

ইতিহাস:
১৮৪৭ সালে
কলকাতার জানবাজারের রানি রাসমণিদেবী অন্নপূর্ণার পুজো দেবেন বলে কাশীতে তীর্থযাত্রার আয়োজন করেন।২৪টি নৌকায় আত্মীয়স্বজন, দাসদাসী ও রসদ নিয়ে তিনি রওয়ানা হন। কিংবদন্তি অনুসারে যাত্রার পূর্বরাত্রে রানি দেবী কালীর স্বপ্নদর্শন পান। দেবী তাকে বলেন,
“ কাশী যাওয়ার প্রয়োজন নেই। গঙ্গাতীরেই একটি নয়নাভিরাম মন্দিরে আমার মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পূজা কর। সেই মূর্তিতে আবির্ভূত হয়েই আমি পূজা গ্রহণ করব। ”
গঙ্গার পশ্চিমকুল বারাণসী সমতুল।
কিন্তু সেদিনকার জমিদারি আভিজাত্যের কারণে চাষিকৈবর্তের মেয়ের পক্ষে মন্দির নির্মাণের জন্য গঙ্গার পশ্চিম কুলে জমি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। হতাশ হয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত নিজের পিত্রালয় হালিশহরে মন্দির নির্মাণ করতে মনস্থ করেন। শোনা যায় মন্দিরের নকশাও তৈরী হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু হালিশহরের গোড়া ব্রাহ্মণ দের ঘোরতর আপত্তিতে সেখানেও মন্দির নির্মাণ সম্ভব হয় নি। ভাট পাড়ার শ্মশান - সংলগ্ন একখন্ড জমি মিললেও জমির মালিক জনৈক বলরামবাবু ভাটপাড়ার পন্ডিতদের দ্বারা পতিত হওয়ার ভয়ে শেষ পর্যন্ত জমি বিক্রি করতে অরাজি হন। জমিদার গৌরাঙ্গপ্রসাদ, রামরতন দত্তরায় আর প্রাণনাথ চৌধুরী এরা সকলেই বাধ সাধলেন রাণীর জমি কেনার ব্যাপারে।

অবশেষে দক্ষিণেশ্বরে (প্রাচীন নাম শোনিতপুর ও সম্বলপুর) কাঙ্ক্ষিত জায়গাটি মেলে । কথিত আছে, দক্ষিণেশ্বর গ্রামে বানরাজা শিব প্রতিষ্ঠা করে সেই শিবের নাম রেখেছিলেন, 'দক্ষিণেশ্বর'। সেই অবধি গ্রামের নাম দক্ষিণেশ্বর। আবার অনেকের মতে দক্ষিণেশ্বরের শিব শ্মশানের নিকটবর্তী শিবতলা ঘাটের ঘাটের 'বুড়োশিব' ।
স্বপ্নের পর রানি অবিলম্বে গঙ্গাতীরে জমি ক্রয় করেন এবং মন্দির নির্মাণকাজ শুরু করেন। ১৮৪৭ সালে এই বিরাট মন্দিরের নির্মাণকাজ শুরু হয়; শেষ হয় ১৮৫৫ সালে।
মন্দিরের ২০ একরের প্লটটি জন হেস্টি নামে এক ইংরেজের কাছ থেকে কেনা হয়। লোকমুখে জায়গাটি পরিচিত ছিল সাহেবান বাগিচা নামে। এর একটি অংশ ছিল কচ্ছপাকার মুসলমান গোরস্থান। তাই তন্ত্রমতে স্থানটি শক্তি উপাসনার জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়। আটবছরে নয় লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই মন্দির নির্মিত হয়। ১৮৫৫ সালের ৩১ মে স্নানযাত্রার দিন মহাসমারোহে মন্দিরে মূর্তিপ্রতিষ্ঠা করা হয়।
রামকৃষ্ণ পরমহংস ১৮৫৫ সালে এই মন্দিরে আসেন তার দাদা প্রধান পুরোহিত রামকুমারের সহযোগীরূপে এবং রামকুমারের মৃত্যুর পর তিনি দাদার স্থলাভিষিক্ত হন
এই পূর্বে মন্দিরের আরাধ্যাকে মাতা ভবতারিনি কালিকা নামে অভিহিত করা হয়েছিল। রামকুমার চট্টোপাধ্যায় প্রধান পুরোহিত পদে বৃত হন, তার ছোটোভাই গদাধর বা গদাই (পরবর্তীকালে রামকৃষ্ণ পরমহংস) তার সহযোগী হন। পরে তার ভাগনে হৃদয়ও তাকে সহায়তা করতে থাকেন।

স্থাপত্য:
১৮৪৭-তে মন্দির নির্মাণ শুরু হয়ে শেষ হয় ১৮৫৫-য়।
মন্দিরটি বঙ্গীয় স্থাপত্যশৈলীর নবরত্ন স্থাপত্যধারায় নির্মিত। মূল মন্দিরটি তিন তলা। উপরের দুটি তলে এর নয়টি চূড়া বণ্টিত হয়েছে। মন্দির দক্ষিণমুখী। একটি উত্তোলিত দালানের উপর গর্ভগৃহটি স্থাপিত। এই দালানটি ৪৬ বর্গফুট প্রসারিত ও ১০০ ফুট উঁচু।
১০০ ফুটেরও বেশি উঁচু এই নবরত্ন মন্দিরের স্থাপত্য দেখার মতো। গর্ভগৃহে সহস্র পাপড়ির রৌপ্য-পদ্মের উপর শায়িত শিবের বুকে দেবী কালী দাঁড়িয়ে। এক খণ্ড পাথর কুঁদে তৈরি হয়েছে
গর্ভগৃহে (স্যাঙ্কটাম স্যাঙ্কটোরিয়াম) শিবের বক্ষোপরে ভবতারিণী নামে পরিচিত কালীমূর্তিটি প্রতিষ্ঠিত। এই মূর্তিদ্বয় একটি রুপোর সহস্রদল পদ্মের উপর স্থাপিত।
মূল মন্দিরের কাছে যে বারোটি একই প্রকার দেখতে পূর্বমুখী শিবমন্দির রয়েছে সেগুলি আটচালা স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত। গঙ্গার একটি ঘাটে দুই ধারে এই মন্দিরগুলি দণ্ডায়মান। মন্দির চত্বরের উত্তর-পূর্বে রয়েছে রাধাকান্ত মন্দির। এই মন্দিরে একটি রুপোর সিংহাসনে সাড়ে একুশ ইঞ্চির কৃষ্ণ ও ষোলো ইঞ্চির রাধামূর্তি প্রতিষ্ঠিত। এবং রানী রাসমণির গৃহদেবতা(রঘুুবীর)দক্ষিণেশ্বরে অধিষ্ঠান করছেন।
এই দেবীমূর্তি।আটবছরে নয় লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় এই মন্দিরটি।

Dakshineswar Kalibari Foundation Day

Today is a special day. Today Dakshineswar is from Kalibari
167th foundations day.
Lokmata Rani Rasmoni established the Dakshineswar Kali Mandir on Thursday, May 31, 1855, the day of the holy bath.

History:
In 1848
Rani Rasmanidevi of Janbazar in Calcutta organized a pilgrimage to Kashi to pay homage to Annapurna. She set out in 24 boats with relatives, slaves and supplies.According to legend, on the eve of the journey, the queen goddess Kali had a dream. The goddess told him,
“There is no need to go to Kashi. Worship by setting up my idol in a beautiful temple on the banks of the Ganges. I will worship as soon as I appear in that idol. ”
Ramakrishna Paramahamsa came to this temple in 1855 as an associate of his grandfather Ramkumar, the chief priest, and after Ramkumar's death he succeeded his grandfather.
After this dream, the queen immediately bought land on the banks of the Ganges and started construction of the temple.
It ended in 1855.
The 20-acre plot of the temple was purchased from an Englishman named John Hasty. The place was popularly known as Saheban Bagicha. Part of it was the tortoise-shaped Muslim cemetery. So in Tantra the place is considered suitable for energy worship. This temple was built in eight years at a cost of nine lakh rupees. The statue was erected in the temple in a grand procession on 31 May 1855, the day of the bathing procession. Earlier the worship of the temple was called Mata Bhavatarini Kalika.
Ramkumar Chattopadhyay became the chief priest, his younger brother Gadadhar or Gadai (later Ramakrishna Paramahamsa) became his associate. Later his nephew's heart also continued to help him.

Architecture:
Construction of the temple began in 1847 and was completed in 1855.
The temple is built in the Navaratna style of Bengali architecture. The main temple has three floors. Its nine peaks are divided into two upper floors. The temple faces south. The sanctum sanctorum is located on a raised building. The building is 48 square feet wide and 100 feet high.
The architecture of this Navaratna temple is more than 100 feet high. In the sanctum sanctorum, Goddess Kali stands on the chest of Shiva lying on a silver lotus with a thousand petals. One piece is made of stone
In the sanctum sanctorum (Sanctum Sanctuary) the idol known as Bhavatarini is established on the chest of Shiva. These two statues are placed on a silver lotus lotus.
The twelve temples of the same type facing east near the main temple are built in the style of Atchala architecture.
These temples stand on two sides of a ghat of the Ganges. To the north-east of the temple premises is the Radhakanta temple. In this temple there are twenty-one and a half inch Krishna and sixteen inch Radha idols on a silver throne. And Rani Rasmani's home deity (Raghubir) is residing in Dakshineswar.
This deity. This temple was built in eight years at a cost of nine lakh rupees.



Blog Url:
https://arcsm.in/blog.php?blog=20210531111843